ব্রুনাই ভিসার দাম কত – ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে।

Written by Bikrom Das

Published on:

বন্ধুরা আমরা এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে ব্রুনাই ভিসার দাম কত তা নিয়ে আলোচনা করব। বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই যেতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কর্মসংস্থানের জন্য, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বা পর্যটক হিসেবে অনেকেই এই দেশটিতে যেতে চান। কিন্তু ভিসা পেতে হলে প্রয়োজন যথাযথ তথ্য এবং প্রস্তুতি। অনেকেই ব্রুনাই ভিসার খরচ সম্পর্কে জানেন না, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জন্য কত খরচ হতে পারে। তাই আজকের এই প্রবন্ধে আমরা ব্রুনাই ভিসার খরচ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

ব্রুনাই ভিসার দাম কত – বিস্তারিত তথ্য

ব্রুনাই ভিসার খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। নীচে ২০২৫ সালের জন্য বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই ভিসার বিভিন্ন ক্যাটাগরির খরচের তালিকা দেওয়া হলো:

ভিসার ক্যাটাগরিখরচ (বাংলাদেশি টাকা)
ট্যুরিস্ট ভিসা৮০ হাজার – ১ লক্ষ ৫০ হাজার
স্টুডেন্ট ভিসা১ লক্ষ – ২ লক্ষ ৫০ হাজার
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা২ লক্ষ – ৫ লক্ষ
মেডিকেল ভিসা৮০ হাজার – ১ লক্ষ ২০ হাজার
ব্যবসায়িক ভিসা১ লক্ষ – ২ লক্ষ

ভিসার খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিশ্চিত তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য এজেন্সি বা ব্রুনাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ব্রুনাই ভিসার প্রকারভেদ ও তাদের উদ্দেশ্য

ব্রুনাই যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রধানত তিন ধরনের ভিসা রয়েছে। এগুলো হলো:

  1. ট্যুরিস্ট ভিসা:
    স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণ বা ছুটির উদ্দেশ্যে এই ভিসা প্রদান করা হয়। যারা ব্রুনাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান বা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
  2. ওয়ার্ক পারমিট ভিসা:
    যারা চাকরি বা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ব্রুনাই যেতে চান, তাদের জন্য এই ভিসা প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ ব্রুনাইয়ে নির্মাণ, তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করতে যান।
  3. স্টুডেন্ট ভিসা:
    ব্রুনাইয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান উচ্চ এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে।

ব্রুনাই ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় নথি

ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো:

  • ভিসা আবেদন ফরম (সঠিকভাবে পূরণ করা)।
  • পাসপোর্ট (অন্তত ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে)।
  • সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সাধারণত ৩-৬ মাসের)।
  • রিটার্ন টিকেট এবং হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ।
  • মেডিকেল চেক-আপ রিপোর্ট (যদি প্রযোজ্য হয়)।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য অতিরিক্ত নথি

যারা ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের অতিরিক্ত কিছু নথি লাগবে। যেমন:

  • চাকরিদাতার কাছ থেকে অফার লেটার।
  • কোম্পানির নিয়োগকর্তা বা এজেন্সির নথি।
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট।

ব্রুনাই ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

ব্রুনাই ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে দূতাবাস বা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমের সঙ্গে উপরের নথিগুলো সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দূতাবাস বা এজেন্সি থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার ভিসার স্ট্যাটাস জানানো হবে।

ভিসার খরচ ভিন্ন হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন:

  • ভিসার ধরন (ট্যুরিস্ট, ওয়ার্ক বা স্টুডেন্ট)।
  • ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি।
  • ব্রুনাইয়ের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা।
  • সময় এবং ঋতু অনুযায়ী ভিসার চাহিদা।

ব্রুনাই ভ্রমণের পূর্ব প্রস্তুতি

ব্রুনাই যেতে হলে আপনাকে ভিসার পাশাপাশি কিছু বাড়তি বিষয়েও প্রস্তুতি নিতে হবে। যেমন:

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ভ্যাকসিন কার্ড।
  • হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা।
  • স্থানীয় মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড সংগ্রহ।
  • ব্রুনাইয়ের স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।

ব্রুনাই ভিসার খরচ বা নীতিমালা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রতিদিন আপডেট জানতে নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট বা এজেন্সি ফলো করুন।

শেষ কথা

ব্রুনাই ভিসার খরচ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা ভ্রমণ বা কাজের পরিকল্পনাকে সহজ করে তোলে। বাংলাদেশ থেকে যারা ব্রুনাই যেতে চান, তাদের জন্য এই প্রবন্ধ সহায়ক হবে বলে আশা করি। যেকোনো তথ্যের জন্য ব্রুনাই দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।

আপনার যদি ব্রুনাই ভিসা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ভবিষ্যতে আরও এমন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।

আমি বহু-বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছি। আমি বাজার দর, রোজগার, অটোমোবাইল, টেলিকম, টেকনোলজি, জীবনধারা, ধর্ম এবং জাতি নিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে লেখালেখি করে থাকি। আমার লেখাগুলো তথ্যবহুল, পাঠকের কাছে সহজবোধ্য এবং সমসাময়িক। Mymensingh, Bangladesh.

রিলেটেড পোষ্ট