প্রিয় পাঠক, বাড়ি নির্মাণ করতে চাইলে প্রথমেই বর্তমানে ইটের দাম কত ২০২৫ সম্পর্কে জানা জরুরি। ইটের দাম জানলে আপনি আপনার নির্মাণ খরচ সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন এবং প্রাক্কলন তৈরি করতে সুবিধা হবে। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ধরনের ইট পাওয়া যায়, যার দাম এবং মান ভিন্ন। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ইট নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইটের ব্যবহার অনেক বেশি। কারণ ইট ছাড়া ভবন নির্মাণ কল্পনাই করা যায় না। বিশেষ করে, ১ নাম্বার ইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ইট তৈরির খরচ যেমন জ্বালানির দাম এবং শ্রমের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ইটের দামও বেড়েছে। আগে যেখানে ১ নাম্বার ইটের দাম ৮-৯ টাকা ছিল, এখন সেটা ১১-১৩ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া অটোমেটিক মেশিনে তৈরি ইটের দাম ১৬-১৭ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বর্তমানে ইটের দাম কত ২০২৫
ইটের দাম অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। নিচের তালিকাটি দেশের বিভিন্ন বিভাগে ১০০০ ইটের বর্তমান দাম সম্পর্কে ধারণা দেবে।
বিভাগের নাম | ১০০০ ইটের দাম (টাকায়) |
---|---|
ঢাকা বিভাগ | ১২,৫০০ |
চট্টগ্রাম বিভাগ | ১৩,৫০০ |
সিলেট বিভাগ | ১২,৭০০ |
ময়মনসিংহ বিভাগ | ১২,১০০ |
রংপুর বিভাগ | ১৩,০০০ |
রাজশাহী বিভাগ | ১২,৫০০ |
খুলনা বিভাগ | ১২,৪০০ |
বরিশাল বিভাগ | ১২,৩০০ |
এই তালিকা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে, চট্টগ্রাম বিভাগের ইটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এটির কারণ সেখানে ইটের মান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার পার্থক্য।
একটি ট্রাকের সাইজের উপর নির্ভর করে ইটের পরিমাণ ভিন্ন হয়। বড় ট্রাকে ২০০০ থেকে ২৫০০ ইট বহন করা সম্ভব, যার দাম ২৬,০০০ থেকে ৩২,৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে ছোট ট্রাকে সাধারণত ১০০০ ইট বহন করা যায়, যার জন্য খরচ হবে প্রায় ১৩,০০০ টাকা।
অটোমেটিক ইটের দাম– বর্তমানে বাজারে অটোমেটিক মেশিনে তৈরি ইটের চাহিদা বাড়ছে। কারণ এই ধরনের ইট মানসম্মত এবং টেকসই। সাধারণ ইটের তুলনায় এর দাম বেশি। অটোমেটিক মেশিনে তৈরি ইটের দাম সাধারণত ১৪-১৭ টাকা করে থাকে।
সিরামিক ইটের দাম– সিরামিক ইট সাধারণ ইটের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং এর মান ও আকার বড়। সিরামিক ইটের দাম ২০২৫ সালে প্রতি ইট ১৮-২০ টাকার মধ্যে হতে পারে। এই ইটগুলো মূলত বিশেষ স্থাপনা বা আলংকারিক কাজে ব্যবহার করা হয়।
ইটের ধরন
ইট সাধারণত পাঁচ ধরনের হয়। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো:
- ১ম শ্রেণীর ইট: এটি সবচেয়ে মানসম্মত এবং প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। এর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
- ২য় শ্রেণীর ইট (পিকেট স্পেশাল): কিছুটা নিম্নমানের হলেও বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়।
- ৩য় শ্রেণীর ইট (পিকেট): সাধারনভাবে ব্যবহার উপযোগী এবং দাম তুলনামূলকভাবে কম।
- ৪র্থ শ্রেণীর ইট (মিঠা): এর মান মোটামুটি এবং কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- ৫ম শ্রেণীর ইট (ঝামা): এই ধরনের ইট সাধারণত রাস্তা বা বালির নিচে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ইটের মাপ ২৪০ মিমি x ১১২ মিমি x ৭০ মিমি হয়ে থাকে। যদিও এটি কিছুটা বড় বা ছোট হতে পারে। প্রতিটি ইটের ওজন সাধারণত ৩.১২৫ কেজি হয়।
ইট কেনার সময় যেসব বিষয় বিবেচনা করবেন
- ইটের মান: ভবন নির্মাণের জন্য ভালো মানের ইট ব্যবহার করা উচিত। ১ম শ্রেণীর ইট এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত।
- দাম: আপনার বাজেট অনুযায়ী সঠিক ইট নির্বাচন করুন। দাম তুলনা করতে বিভিন্ন জায়গার বাজারে ঘুরে দেখুন।
- সাইজ ও ওজন: ইটের সাইজ এবং ওজন ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- পরিবহন খরচ: ইট পরিবহনের জন্য যে খরচ তা বিবেচনা করে দেখুন।
শেষ কথা
আশাকরি, আপনি এই আর্টিকেল থেকে বর্তমানে ইটের দাম কত ২০২৫ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। বর্তমানে ইট তৈরির জন্য জ্বালানি ও শ্রমের মজুরি বাড়ায় ইটের দাম বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরো দাম বাড়তে পারে যদি ইট তৈরির খরচ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, নতুন নিয়মাবলী বা পরিবেশগত কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।
বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে ইটের দাম সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরণের ইটের দাম, গুণগত মান, এবং প্রকারভেদ অনুযায়ী সঠিক ইট নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, এই নিবন্ধটি আপনাকে ইটের দাম এবং ইট কেনার পূর্বে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে সাহায্য করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের মূলপাতা ভিজিট করুন।