দুবাই টুরিস্ট ভিসার দাম কত তা অনেকের প্রশ্ন। প্রথমেই একটি ভ্রান্তি দূর করা দরকার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী হল আবুধাবি, কিন্তু দুবাই এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর। বর্তমানে দুবাইতে প্রচুর বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন এবং সেখানে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করছেন। এই প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুবাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত না হলেও, এটি আধুনিকতার দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শহর। শহরটি তার উচ্চতম ভবন, অত্যাধুনিক শপিং মল, এবং বিলাসবহুল জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। ফলে পর্যটকদের জন্য দুবাই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দুবাইতে ভ্রমণ বা কর্মসংস্থানের জন্য যেতে হলে ভিসার প্রয়োজন হয়, এবং এই ভিসাগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। সবচেয়ে সাধারণ ক্যাটাগরি হচ্ছে টুরিস্ট ভিসা এবং কর্মসংস্থানের ভিসা।
দুবাই টুরিস্ট ভিসা সাধারণত সেই ব্যক্তিদের জন্য যারা মূলত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দুবাই যেতে চান। টুরিস্ট ভিসার জন্য অন্য ক্যাটাগরির তুলনায় ভিন্ন ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
দুবাই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
অনেকেই কর্মের উদ্দেশ্যে দুবাইতে যান এবং তাদের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে। কর্মসংস্থানের ভিসার খরচ টুরিস্ট ভিসার তুলনায় কিছুটা বেশি হয়ে থাকে, কারণ এতে আরও কিছু প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে।

দুবাই টুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং (আবেদন প্রক্রিয়া)
দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া মোটামুটি সহজ, এবং আপনি দুইটি প্রধান পদ্ধতিতে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন:
- এজেন্সির মাধ্যমে: অনেক ভ্রমণ এজেন্সি রয়েছে যারা দুবাই টুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে আপনি পুরো প্রক্রিয়াটি এজেন্সির হাতে ছেড়ে দিতে পারেন।
- এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে: কিছু এয়ারলাইন্সও টুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং এর সেবা প্রদান করে। বিশেষ করে যখন আপনি ঐ এয়ারলাইন্সের টিকেট ক্রয় করেন, তখন তারা ভিসা প্রসেসিং এর দায়িত্বও নিয়ে নেয়।
দুবাই টুরিস্ট ভিসার দাম কত ২০২৫
২০২৫ সালে দুবাই টুরিস্ট ভিসার খরচ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। সাধারণত, একটি ৩০ দিনের টুরিস্ট ভিসার জন্য খরচ হয় ১০,০০০ টাকা থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা ক্যাটাগরি এবং অবস্থানের উপর নির্ভর করে। এ ছাড়া বিমান ভাড়া, হোটেল বুকিং, এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে সম্পূর্ণ সফরের খরচ মোটামুটি ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিভিন্ন মেয়াদের ভিসা খরচ
- ৩০ দিনের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা: বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০,০০০ টাকা।
- ৩০ দিনের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা: প্রায় ১৯,০০০ টাকা।
- ৯০ দিনের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা: প্রায় ৭৫,০০০ টাকা।

দুবাই ভিজিট ভিসা বের হতে কতদিন লাগে
টুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এসময়ে আপনার আবেদন পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই-বাছাই করা হয়। এছাড়াও, বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। টুরিস্ট ভিসা প্রসেস করতে যে খরচ হয় তা মূলত নির্ভর করে আপনি কোন প্রকারের ভিসার জন্য আবেদন করছেন এবং কোন পদ্ধতিতে তা করছেন। এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে কিছু অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে এজেন্সির ফি এবং অন্যান্য ব্যয়ের হিসেবও মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ থেকে নেপালের বিমান ভাড়া কত জানুন।
শেষ বিষয়
দুবাই ভ্রমণকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার মাধ্যমে সেখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি দুবাইয়ে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ভিসার জন্য আবেদন করুন। এই পোস্টটি থেকে আপনি দুবাই টুরিস্ট ভিসার খরচ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন।
সবকিছু পরিকল্পিত এবং সঠিকভাবে প্রস্তুত হলে দুবাই একটি স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে উপরের তথ্যগুলো আপনাকে আপনার ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির সাথে, আপনি একটি আরামদায়ক এবং চাপমুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন। আশাকরি এই তথ্যগুলো আপনার দুবাই ভ্রমণের পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। এছাড়াও আপনি অন্যান্য বিষয়ে সবার আগে তথ্য পেতে আমাদের হোয়াটসাপ চ্যানেলকে ফলো করুন।